শুভ সমাপ্তি | বাসর রাতের গল্প পর্ব ৩

আপনি একটা ছেলে মানুষ আপনাদের বিষয়ে কোন একটা কথা উঠলে দুইদিন পর সেটা বুঝে যাবে কিন্তু আমি একটা মেয়ে মানুষ আমাকে আমার বাবা আর অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে পারবেন না আবার অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে গেলে নানান কথা শুনতে হবে।লোকের সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে বলবে আমি বিয়ের অযোগ্য পাত্রী।তাই বিয়ের পরও আমাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে

রিহান: দেখুন এইসব কথা আমি শুনতে চাইছি না।আমার যেটা বলার আমি বলে দিয়েছি।এখন আপনি কি করবেন না করবেন সেটা এখন আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।কিন্তু আমি কোনভাবেই আপনার সঙ্গে সংসার করতে পারবোনা।তাছাড়া আমি যথেষ্ট হ্যান্ডসাম একটা ছেলে আমাকে দেখলে যে কোন মেয়ে প্রেমে পড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

নিহা: হ্যাঁ আমিও তো সেটাই বলছিলাম তুমি যদি এই কথাটা তোমার বাবা মাকে বিয়ের আগে জানাতে তাহলে নিশ্চয়ই তোমার উপযুক্ত একটা মেয়েকে তোমার বাড়িতে তোমার বউ করে নিয়ে আসত।তাহলে তো আর আমার জীবনে এমন একটা কলঙ্ক লেপে দিতে হতোনা

যাইহোক তুমি যেটা চিন্তা করছ সেটা কখনোই হবে না।কারণ আমি এই বাড়ি ছেড়ে কোনদিন চলে যাব না। এটা আমার শ্বশুরবাড়ি আর মেয়েদের শেষ নিঃশ্বাস শ্বশুর বাড়িতেই ত্যাগ হয় আর সেই জন্যই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমি এই বাড়ি ত্যাগ করবো না।

রিহান: উফ আল্লাহ আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না এই মুহূর্তে আমি কি করবো আমার কি করা উচিত, কিন্তু এই মেয়েটা তো এমন ভাবে কথা বলছে সে যেন আমাদের বাড়িতে একদম চলে এসেছি আর কখনো আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে না এখন আমি কি করবো

আমি তো এই মেয়েটার সঙ্গে কোন ভাবেই সংসার করবো না।কারণ আমি যদি মেয়েটার সঙ্গে সংসার করি তাহলে আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারবো না, কথাগুলো আমি মনে মনে ভাবছিলাম

এমন কেমন সময় নিহা আমাকে বিছানার উপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।আমি কোন রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে বসতে চাইছিলাম কিন্তু নিহা আমাকে সেই সুযোগটা দিল না তার আগে এসে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো

নিহা: এই যে মিস্টার আপনি কান খুলে শুনুন আপনি যাই কিছু করো না কেন আপনি কোন ভাবেই আমার হাত থেকে রক্ষা পাবেন না, কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই রাতটার জন্য অপেক্ষা করছি তাই আমি এই রাতকে কোনভাবেই ভেস্তে যেতে দিতে পারি না।

সব মানুষই রাতে অনেক স্বপ্ন থাকে আমার অনেক স্বপ্ন আছে আর আপনি যখন নিজের ইচ্ছেই আমার সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করতে দিবেন না তখন তো আমাকে জোর করেই আমার স্বপ্নগুলোকে পূরণ করে নিতে হবে।কারণ আর যাই হোক আমি কখনোই আমার স্বপ্নকে অপূর্ণ রাখবো না, কথাটা বলেই নিহা রিহান আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তাকে আদর করতে শুরু করলো।

আমি নিজেকে নিহার হাত থেকে ছাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম কিন্তু কোনভাবেই ছাড়াতে পারছিলাম না একটা মেয়ে মানুষের শরীরে এত শক্তি কিভাবে আসে সেটা আমার জানা ছিল না।আমি একটা পুরুষ মানুষ আর আমি এত চেষ্টা করছি কিন্তু তার বাঁধন থেকে কোনভাবেই নিজেকে ছাড়াতে পারছি না।

এতক্ষণে আমারও শরীরের শক্তি অনেকটা কমে এসেছে কারণ হাজার হোক আমি একটা পুরুষ মানুষ আর আমার কাছে যদি একটা মেয়ে নিজেকে এভাবে উজাড় করে দিতে থাকে এভাবে আদর করতে থাকে তাহলে তো যেকোনো পুরুষের পক্ষে নিজেকে কন্ট্রোলে রাখা সম্ভব নয়।তাই আমি অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলাম আর নিহা কে ছেড়ে দিয়েছিলাম তার ইচ্ছেমতো করে আমাকে আদর করার জন্য

নিহা: মিস্টার এভাবে শুয়ে থেকে তার কোন লাভ হবে না উঠুন আপনিও রেসপন্স করুন।

নিহার কথা শুনে আমার মধ্যে যেন আরো অনেকটা উত্তেজনা চলে এসেছিলো। তাই আমি আর নিজেকে সামলে না রেখে নিহাকে ধাক্কা দিয়ে আমার উপর থেকে সরিয়ে একদম কাঠের উপর শুইয়ে দিলাম।তারপর আমার পুরুষত্ব দেখাতে থাকলাম।

দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর রিহান নিহাকে ছেড়ে দিয়ে শুয়ে পড়লো। তখন নিহা রিহানের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো

কি ব্যাপার মিস্টার তখন তো আপনি খুব বড় বড় কথা বলেছিলেন কিন্তু এখন এই দুই ঘন্টায় কি করলেন এসব

আমি অনেকটা লজ্জায় পড়ে গেলাম কিন্তু তারপরও নিজেকে সামলে নিয়ে বলতে লাগলাম এখানে আমার কি দোষ আপনি তো নিজেই, নিজেকে আমার কাছে উজাড় করে দিয়েছেন আর আমি তো একটা পুরুষ মানুষ। তাই নিজেকে আর কন্ট্রোলে রাখতে পারিনি আপনি যখন আমার পুরুষত্বর কথা তুলেছেন তখন তো
আমার তো আপনাকে দেখাতেই হয় তাই এইটুকু করলাম আর কি।

নিহা: যাইহোক এবার আর আশাকরি আমাকে মেনে নিতে কোন সমস্যা হবে না।

রিহান: কিন্তু আমার বন্ধুবান্ধব আমার আত্মীয়স্বজন আমার পাড়া প্রতিবেশী তোমাকে বিয়ে করেছি বলে তো আমাকে নিয়ে অনেক কানাঘষা করছে সবাই আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করছে সবাই বলছে আমি নাকি তোমার বাবার অর্থ সম্পদের জন্য তোমাকে বিয়ে করেছি।

নিহা:দেখো কে কি বলল আর কে কি না বলো সেই সব বিষয় নিয়ে কোনদিনই আমার মাথা ব্যথা ছিল না আর কোনদিনই থাকবে না কারণ তুমিও তোমার বাবার ইচ্ছে পূরণের জন্য আমাকে বিয়েটা করেছো আর আমি আমাকে বিয়েটা করেছি তাই

আমার মনে হয় পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজন কে কি বলো না বলল এইসব কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।এই সব কিছু নিয়ে চিন্তা করার জন্য আমাদের পরিবার রয়েছে তারাই এইসব কিছু নিয়ে চিন্তা করুক আমাদের উচিত নিজেদের জীবনটাকে বিন্দাস করা

রিহান: হ্যাঁ সেটা একদম তুমি ঠিক কথাই বলেছো এখন তো আমাদের আনন্দ করার সময় তাই আমাদের উচিত আনন্দ করা মন খুলে আনন্দ করা।

নিহা: এখন ঘুমিয়ে পড়ো অনেক রাত হয়েছে, আর শোন আমার না একটা ইচ্ছে ছিল তুমি কি আমার সেই ইচ্ছেটা পূরণ করবে।

রিহান: হ্যাঁ অবশ্যই করবো হাজার হোক যদি আমাদের বিয়েটা হয়েছে কিন্তু আমি তো তোমার স্বামী তাই তোমার সকলের দায়িত্ব এখন থেকে আমার তুমি আমাকে যা বলবে আমি তাই করবো

নিহা: আমার ইচ্ছে ছিল বিয়ের পর থেকে প্রতিটা রাত আমি আমার স্বামীর বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো

এইটুকুই কোন সমস্যা নেই তুমি চলে এসো বলতে, নিহা আমার বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল আমিও তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়লাম।এভাবেই শেষ হলো আমার সিনিয়র বউয়ের সঙ্গে বাসর রাতের গল্প।

সমাপ্ত

লেখকঃ সুজন ইসলাম

Post By Nil

Waiting for Story

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url