Rohan And Nil Game Deployment | The Mysterious Game Part 2
উত্তর কোরিয়ার সিউলের সবচেয়ে নিকটবর্তী সুন্দর স্থান হচ্ছে জীন আইসল্যান্ড।সিউল থেকে প্রায় ছয় ঘন্টা লাগে এই জায়গায় যেতে।এই আইসল্যান্ডে প্রতিদিন বিভিন্ন টুরিস্টদের আনাগোনা চলেই।রোহান বসে বসে চারপাশের সৌন্দর্য উপভোগ করছে।রোহান মাঝে মাঝে এই জীন আইসল্যান্ডে আসে ঘুরতে আসে সময় কাটানোর জন্য। কিছুক্ষণ থেকে আবার চলে যায়।এই জায়গাটা রোহানের প্রিয় একটা স্থান।
এদিকে নীল তার একটি গোপন ল্যাবে অনেক পরিশ্রম ও অনেক সময় ব্যয় করে একটি গেইম ক্রিয়েট করেছে। গেমটি হচ্ছে অপেন ওয়ার্ল্ড সারভাইবাল গেইম।এটি একটি একশন-এডভেঞ্চার সারভাইবাল ধাঁচের গেম।নীল ছোট থেকে গেমিং ডেভেলপার হওয়ার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু কখনো কারো সাহায্য পেতো না। গেমিং ডেভেলপার হওয়ার জন্য নাকি অনেক টাকা দিয়ে কোর্স করতে হবে।কিন্তু নীলের পরিবার মধ্যবিত্ত বলে সেটা কখনো সম্ভব হয়নি। তাই নীল নিজে নিজে ইউটিউব ভিডিও দেখে গুগলে থেকে গেইম বানানোর জন্য কিন্তু তবুও শিখতে পারেনি। গেম একা বানানো কখনোই সম্ভব না নীলের এই অপেন ওয়ার্ল্ড সারভাইবাল গেইম বানাতে রোহান তাকে অনেক সাহায্য করেছে। গেইম বানানোর জন্য যেসব ল্যাংগুয়েজ সে শিখেছে সব রোহানের মাধ্যমে শিখতে পেরেছে।
রোহান ছোট থেকেই কোডিং নিজে নিজে শিখতো তার গেমের প্রতি একটু বেশিই আগ্রহ ছিলো।কিন্তু পড়াশোনার জন্য কখনো তার কোডিং চর্চা করার সময় উঠতো না।পড়াশোনার ফাকে নীল আর রোহান দুজন মিলে গেইম ক্রিয়েট করে। গেমের এখনো কিছু কাজ বাকি আছে যেমন গেমের ভিতরে এখনো কোনো কারেক্টার বসানো হয়নি। শুধু World ক্রিয়েট করেছে সুন্দর সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড এবং বিশ্বমানের গ্রাফিক্স দিয়ে একটা কিংডম তৈরি করেছে।পৃথিবীর মতোই সেইম টু সেইম গেমের ভিতরে আছে।শহর বন জঙ্গল ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে গেমের ভিতরে আল্ট্রা লেভেলের গ্রাফিক্স দিয়ে ওয়ার্ল্ড ক্রিয়েট করেছে যেটাতে সবকিছুই আছে। গেমে ৯০% কাজ শেষ শুধু কারেক্টার বানিয়ে তাদের রান করতে হবে।
জীন আইসল্যান্ড থেকে ফিরে রোহান সবুজ দিগন্তে মাঠে বসে আছে। গেইম নিয়ে প্রায় ৩ বছর থেকে রোহান আর মামুন গেম বানাতে শ্রম দিয়েছে। হ্যা এটা ঠিক যে গেম বানাতে কারো দশ বছর লেগে যায় সেখানে রোহান আর নীল নিজেদের ট্যালেন্ট এর জন্য প্রায় ৩ বছর লেগেছে । আর গেমটি মূলত পিসি ভার্সনের জন্য। তাই এই গেম নিয়ে অনেক স্বপ্ন রোহানের। নীল আর রোহান একই বয়সী হলেও নীলের তেমন বেশি পড়াশোনা হয়ে উঠেনি।রোহান এবার ইন্টার ২য় বর্ষে কিন্তু নীল এখন গেমিং কোডিং এ পারদর্শী। আর রোহান পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দুজন গেম বানানোর কাজ একটা গোপন ল্যাবে করে। ল্যাবটা মুলত সিকিউরেট ল্যাব।
রোহান অনলাইনে কাজ করে একটা বড় বাজেট হাতে পেয়েছিলো সাথে নীলের অর্ধেক টাকা ।সেটা দিয়ে দুটো ভালো মানের কম্পিউটার আর একটা ল্যাপটপ কিনে নেয় সাথে হাই স্পীড রাউটার আর বাকি বাজেট দিয়ে একটা ল্যাব তৈরি করে কিছু লোকজন দের মাধ্যমে তাও গোপনে। ল্যাবটা নীলের রুমে আন্ডারগ্রাউন্ডে। ল্যাব সিকিউরেট করা তাই নীল আর রোহানের ফিংগার প্রিন্ট ছাড়া ল্যাবে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
আর ল্যাব বানাতে আরো তিন জন রোহান কে সাহায্য করেছে তারা হচ্ছে নাঈম, সুজন আর নাহিদ তারা সবাই একই বয়সী হলেও নাহিদ তাদের থেকে ৫ বছরে ছোট তবুও নাহিদের এসবের প্রতি অনেক আগ্রহ। নাঈম আর সুজন এবার ইন্টার ১ম বর্ষে আর নাহিদ ক্লাস ৭ এ।
রোহান কলেজ থেকে বাসায় ফিরলো। খাওয়া দাওয়া করে নিজের রুমে শুয়ে আছে। ঠিক ওই সময় রিহান আসলো। রিহান হচ্ছে রোহানের ছোট ভাই। আর রোহানের পরিবারে তার মা বাবা আর তারা দুই ভাই। রোহান ফোন টিপতে টিপতে হঠাৎ তার চোখ গেলো রিহানের দিকে। রিহান দাঁড়িয়ে আছে দেখে মনে হচ্ছে কি যেনো বলবে।
ওমন দাঁড়িয়ে আছিস কেনো কিছু বলবি রোহানের জবাবে রিহান বলতে লাগলো ভাইয়া সুজন ভাইয়া আর নাহিদ ফোন দিয়েছিলো তারা তর সাথে দেখা করবে। ওরা নীল ভাইয়ার বাসায় আছে
হুমম ভাবছিলামই যাবো ওখানে, আর আব্বু আম্মু কে দেখছি না যে?
আব্বু আম্মু নানুর বাসায় গেছে। মনে হয় রাতে আসবে।
আচ্ছা আমি গেলাম তাহলে আর বাসায় থাকিস।
এই বলে রোহান খাওয়া দাওয়া করে নীলের বাসার দিকে রওনা দিলো। নীলের পরিবারে কেউ নেই সে একা থাকে। আট বছর আগে তার বাবা মা আর তার বোন গায়েব হয়ে যায়।তখন থেকে নীল একা। তার পরিবারের সাথে কি হয়েছিলো সেদিন এটা কেউ জানে না। অনেকে মনে করে তারা নাকি মারা গেছে। নীলের দূরসম্পর্কের এক আত্বীয় আছে এক বুড়িমা সে রান্না করে খাওয়ায় তবে মাস গেলে তেনাকে এর পরিশ্রামিক দেয়।
রোহান নীলের রুমে গেলো যেয়ে দেখলো নীল, সুজন, নাঈম, নাহিদ বসে আছে রোহান সেখানে যেতেই নাইম বলতে লাগলো
-কিরে জীন আইসল্যান্ডে কেমন কাটলো তোর। আর যাওয়ার সময় আমাদের ও জানালি না।
-ভালোই রে মনটা রিফ্রেশ লাগছে। নেক্সট এ তোদের নিয়ে যাবো।
-ওই রোহান গেমের কাজ প্রায় শেষের দিকে কিন্তু দুই দিন থেকে তর কোনো দেখা নাই (সুজন)
-আমি নিজেই নীল কে সেটা বলেছিলাম। কারন আমাদের পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে গেমের কারেক্টার গুলো কে ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য।
-তা কি কতটুকু ভাবা হয়েছে তোর। গেমিং কোড জানিস তাও এতো লেট করছিস কেনো? (নাঈম)
-গেম ক্রিয়েট করা কিন্তু তাড়াহুড়োর কাজ না । কোডিং জানলেও কিন্তু সব করা সম্ভব না। ভেবে চিন্তে পদক্ষেপ নিতে হয়। প্রায় ৩ বছর হলো তবেই গেম তৈরি করার শেষের দিকে চলে আসছে
-তা ঠিক বলছিস। এখন কি করার পরিকল্পনা করছিস (সুজন)
-আমি কিন্তু তর আশায় আছি রোহান, কারেক্টার গুলো কে কেমন ভাবে প্রেজেন্টেশন করতে চাস। (নীল)
-আচ্ছা ল্যাবে চল সবাই সেখানেই বলছি আর এখানে নাহিদ কি করছে।
-আজ ছোট বলে আমাকে অবহেলা। ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি তাহলে
নাহিদের কথায় সবাই হাসতে লাগলো। এর ফাঁকে রোহান বলল
-আরে বেটা মজা করলাম। তর বয়সে কিন্তু আমি এসব আগ্রহের প্রতি আসক্ত ছিলাম। যাইহোক চল সবাই ল্যাবে
নীল ফিংগার প্রিন্ট দিয়ে ল্যাবের লক খুললো।আর সবাই আন্ডারগ্রাউন্ডের ভিতরে এলো রোহান সহ সবাই ল্যাবের ভিতর প্রবেশ করে। তাদের কাজে লেগে পড়লো কারেক্টার ডেপলপমেন্টের জন্য।
চলবে
Writer: MD Rohan Islam
Waiting for the next Part

নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url