Secrets of the Jungle | The Mysterious Game Part 1

সময়টা ২০১৬ সালে জুন মাস। একটি লোক ছুটে চলছে তার গন্তব্যের দিকে।লোকটির চোখে মুখে বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।থান্ডার ওয়াইল্ডস হচ্ছে একটা বিশাল আকারের জঙ্গলের নাম। যেটি প্রায় একশ বছর থেকে একটি নিষিদ্ধ জঙ্গল হিসেবে পরিচিতি আছে। এই জঙ্গলে সচরাচর মানুষের আনাগোনা খুব কমই বলা চলে, অনেকে থান্ডার ওয়াইল্ড কে অভিশপ্ত জঙ্গল বলে থাকে, এই জঙ্গলটি মুলত উত্তর কোরিয়ায় সিউলের সবচেয়ে উঁচু পর্বত বুখানসান যার (উচ্চতা ৮৩৬ মিটার) এর পাশেই।

প্রায় একশ বছর আগে কি হয়েছিলো এই থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে এটা কারো জানা নেই। কিন্তু তখন থেকেই এই জঙ্গল পরিত্যক্ত হয়ে আছে। সচরাচর এই জঙ্গলের আশপাশ কেউ যায় না। রাতের বেলা এই থান্ডার ওয়াইল্ডস আরো ভয়ংকর রুপ ধারন করে। অনেক ভয়ংকর ভয়ংকর শব্দ আসে প্রায় রাতে ওই জঙ্গল থেকে, অনেকে মনে পরে সেই জঙ্গলে নাকি ভুত প্রেতাত্মা বসবাস করে আর ভয়ঙ্কর জংলি পশুপাখি তো আছেই।

এমনটাই তাদের ধারনা।লোকটি থান্ডার ওয়াইল্ডস এ প্রবেশ করে। তার হাতে একটি বই ছিলো। বইটির আকার মাঝারি সাইজের, বড় সিলভার রঙের বইটা।লোকটা সেই সিলভার রঙের বইটি দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলো। আর বলতে লাগলো কেনো আমার সাথে এমনটা করলে, আমি তোমার কি এমন ক্ষতি করেছি। আমার জীবনটা কেনো অভিশপ্ত করে তুললে। আমার পরিবার কে ফিরিয়ে দাও আর যদি আমার পরিবার কে ফিরিয়ে না দেও তাহলে, লোকটি বইটি মাটিতে রেখে গ্যাসলাইট দিয়ে পুড়তে যাবে সাথে সাথে বুম।

চারদিকে কালো ধোঁয়া দিয়ে ছেয়ে গেলো। যখন ধোঁয়া গুলো সরে গেলো বইয়ের আশেপাশে আর লোকটিকে দেখা গেলো না। আর বইটি থেকে উজ্জ্বল আলো আসতে লাগলো। পরক্ষনেই বইটি নিজেও গায়েব হয়ে গেলো। ঠিক ওই সময় অদ্ভুত টাইপের একটি লোক সেখানে উদয় হয় সারা শরীর কালো কাপড় দিয়ে মোড়া। মুখে পৌচাশিক হাসি দিয়ে সে নিজেও গায়েব হয়ে গেলো।

তাহলে কাহিনীটা এক মাস আগে নেওয়া যাক।২০১৬ সালের মে মাস।মোহাম্মদ সাজ্জাদ একজন উত্তর কোরিয়া সিউলের গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার। মূলত তিনি বাংলাদেশী ছিলেন আর সিউলে বসবাস করেন। সে প্রায় রাতে দূরবীন দিয়ে অনেক দুরের দুরের জায়গায় লক্ষ্য রাখতো একদিন হঠাৎ একজায়গায় তার চোখ আটকে যায়। সাজ্জাদ দূরবীন দিয়ে দেখলো অনেক দূরে একটা জঙ্গল থেকে আলোর ঝলক চোখে পড়ছে। সে দূরবীনে আরো জুম করে দেখে এটা থান্ডার ওয়াইল্ডস জঙ্গল।

কিন্তু সাজ্জাদ জানে এটা প্রায় একশ বছর ধরে পরিত্যক্ত তাহলে সেখানে আলোর ঝলকানি কিসের। কৌতূহল বশত হয়ে মোহাম্মদ সাজ্জাদ তখনই বেরিয়ে পড়েন থান্ডার ওয়াইল্ডস জঙ্গলে তাকে জানতেই হবে ওখানে আলোর ঝলকানি কিসের?

প্রায় এক ঘন্টা পথ অতিক্রম করে মোহাম্মদ সাজ্জাদ থান্ডার ওয়াইল্ডস জঙ্গলে পৌঁছে যায় যেহেতু বুখানসান পর্বত থেকে একটু দূরে তার বাসা।মোহাম্মদ সাজ্জাদ ভাবতে লাগলো যাবে কি যাবে না।কারন থান্ডার ওয়াইল্ডস একশ বছর ধরে পরিত্যক্ত সে শুনেছে অনেক ভয়ংকর হিংস্র পশুপাখি নাকি এই থান্ডার ওয়াইল্ডস জঙ্গলে বসবাস করে।তাই কেউ ভুলেও থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে আশেপাশে থাকে না।সে নিজেও গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার হয়েও ভয় পাচ্ছে। সাজ্জাদ কোনোকিছু না ভেবে জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করে আলোর উৎস খুজার জন্য।

হাতে বড় একটি লাইট নিয়েছে আর একটা এমপি৫ গান। যাতে হিংস্র পশুপাখি আক্রমন করলে তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারে। তাই সাজ্জাদ চলছে সামনের দিকে অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ সাজ্জাদের লাইট টা বন্ধ আর চালু হতে লাগলো। সাজ্জাদ কি করবে ভেবে পাচ্ছিলো না একমাত্র লাইটাই তার সম্বল ছিলো পথ খুজার জন্য। একসময় লাইট টাই বন্ধ হয়ে গেলো।

চারপাশে ভয়ংকর জীবজন্তু ঘিরে ধরেছে এটা স্পষ্টই বুঝতে পারছে সাজ্জাদ।কারন তার আশেপাশে জীবজন্তুর অবয়ব সে ভালো করেই দেখতে পারছে। লাইট টা নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে এখন বিপদে সাজ্জাদ। জীবজন্তু গুলো হুংকার দিতে লাগলো। সাজ্জাদ সাথে সাথে জঙ্গলের ভিতরে দৌড় দিতে লাগলো। জীবজন্তু গুলো সাজ্জাদের পিছনে হুংকার দিতে দিতে দৌড়াতে লাগলো। অনেকক্ষণ দৌড়ানোর পর সাজ্জাদ জঙ্গলের অনেকটা গভীরে চলে আসে। জীবজন্তু গুলোর হুংকার থেমে যাওয়ায় সাজ্জাদ ও দৌড়ের গতি থামিয়ে দিলো আর হাঁপাতে লাগলো। এমনিতেই সাজ্জাদের বয়স হয়ে গেছে তাই তার শরীর তাড়াতাড়ি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন সে হাঁটার ও শক্তি পাচ্ছে না। পরক্ষনেই সাজ্জাদ ভাবলো কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত তারপর না হয় আলোর উৎস খুঁজে বের করবে।

জঙ্গলের গভীরে যেহেতু সে এসে পেরেছে তাই আর আলোর উৎস খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত সে বাসায় ফিরবে না।তাই সাজ্জাদ বিশ্রাম নিতে লাগলো। রাত এক টা সাজ্জাদ অন্ধকারের মাঝে হাঁটতে লাগলো। এই থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে বিশ্রাম নেওয়ার পর এবার সামনের দিকে চলতে লাগলো।আলোর ঝলকানি এখনো দেখা দিচ্ছে তার সামনে একটু দূরে।তাই সাজ্জাদ সেই দিকেই যাচ্ছে। অনেক কষ্টে সে পৌঁছে যায় সেখান আর এসেই অবাক হয় একটা বইয়ের ভিতর থেকে আলো বের হচ্ছে আর বইটা উজ্জ্বল করছে। সাজ্জাদ ভাবতে লাগলো বইয়ের ভিতর থেকে কিভাবে আলো বের হতে পারে? আর এখানে এই জঙ্গলে বই কিভাবে আসতে পারে

নিশ্চিত কোনো রহস্য বা কোনো ম্যাজিক আছে নয়তো এমনটা কখনোই সম্ভব না।বইয়ের ওপরে লেখা ছিলো রহস্য (English) ভাষায়। তাই সাজ্জাদ ঠিক করলো বইটা বাসায় নিয়ে যাবে তারপর বইয়ের রহস্য জানবে। বইটা হাতে নিতেই আলো নিভে যায়, সাজ্জাদ কোনো না ভেবেই বইটা নিয়ে জঙ্গল থেকে বের হয়ে যায়। বাসায় পৌছেই শরীরটা ক্লান্ত থাকায় বইটা পাশেই রেখে সাজ্জাদ ঘুমিয়ে পড়ে। হঠাৎ বইয়ের পাতা খুলে যায় আর সেখান থেকে একটা অবয়ব বের হয়ে আসে আর অবয়বটির সামনে সে ঘুমন্ত সাজ্জাদের দিকে তাকিয়ে পৌচাশিক হাসি দিলো। বই থেকে একপ্রকার সবুজ রঙের ধোঁয়া পুরো বাসার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বইটি সাজ্জাদের পাশে পড়ে থাকে।


সেই সকাল থেকে সাজ্জাদ ঘুম থেকে উঠে বাসায় কাউকে দেখতে পায় না। তার স্ত্রী এবং মেয়ে গেলো কোথায়।সকালে সাজ্জাদ ঘুম থেকে উঠে সাজ্জাদ যখন কাউকে বাসায় না দেখে একটু অবাক হয়ে যায় এতো সকালে তারা কোথায় গেলো।পাড়া প্রতিবেশী থেকে সব রিলেটিভদের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পায় না।

সাজ্জাদ তার ছেলে নীল কে ফোন দিলো সাজ্জাদ জানে তার ছেলে রোহানের বাসায় আছে। গত দুইদিন ধরে নীল রোহানদের বাসায় আছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য। নীল কল রিসিভ করে জানালো সকালে কেনো ফোন দিয়েছে। সাজ্জাদ বলে তার আম্মু আর বোন কোথায় গেছে সে জানে নাকি । নীল বলে আম্মু আর নিশি তো বাসায় থাকার কথা। কাল রাতেই তো কথা হয়েছে তাদের। সাজ্জাদ কল কেটে দেয় সে বুঝতে পারে সবকিছু ওই বইটির জন্য হয়েছে নাকি কারন রাতে সে স্বপ্ন দেখছিলো তার পুরো বাসায় বই থেকে একটা সবুজ রঙের আলো দিয়ে ঢেকে যায়, তার স্ত্রী আর মেয়ে চিংকার করতে করতে গায়েব হয়ে যায়। আর এসবের মুলে আছে ওই রহস্যময় বইটি। তাই সাজ্জাদ বইটি নিয়ে আবার থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে চলে যায়।

(তারপর কি হয়েছে তা তো আপনারা প্রথমেই জানলেন)

চলবে

Writer: MD Rohan Islam

Waiting for the next part

২য় পর্ব থেকে শুরু হবে মুল কাহিনী।আর গল্পটি অনেক বড় হবে ।তার সাথে রহস্যময় আর ধামাকা তো আছেই।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url