A student's last location | The Mysterious Game Part 4

ব্রেকিং নিউজ সাংমিয়ং বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস 12 এর রুম থেকে সব ছাত্র ছাত্রী গায়েব খবরটি মুহূর্তেই ভাইরাল।এমনকি ওই ক্লাস রুমের শিক্ষক ও গায়েব। কি হয়েছিলো কলেজে?

সব টিভি চ্যানেলে হেডলাইনে একই খবর সমপ্রচার হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীর গার্জিয়ান রা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে তাদের সন্তানদের নিখোঁজের রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো কোনো ক্লু পাইনি। কারন পুলিশ CCtv ফুটেজ চেক করেছিলো সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ওই রুমের সবাই ক্লাস করছে কিন্তু মাত্র এক সেকেন্ডেই মুহূর্তের মধ্যেই তারা গায়েব হয়ে গেলো।

পুলিশ নিজেও অবাক এ ব্যাপারে, তাদের কাছে মিরাকেলের মতোই মনে হচ্ছে, এই মর্ডান যুগে এটা কিভাবে সম্ভব।পুলিশ ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন নাম্বারের লোকেশন ট্রেস করেছিলো কিন্তু সন্দেহ জনক একজন ছাত্রীর লাস্ট লোকেশন পাওয়া গিয়েছে। আর বাকি জনের পাইনি।তাদের লাস্ট লোকেশন ছিলো থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলের। যেহেতু থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গল পরিত্যক্ত ভয়ংকর হিংস্র জীবজন্তু জানোয়ার থাকার আশংকায় বন আর্মিদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সন্দেহ জনক তারা কিছুই খুঁজে পায় নি। নিউজ হচ্ছে আজকের ১৪ ই জানুয়ারি ২০২৪ এর সকাল ১১ টার খবর।

টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়ার এক পর্যায়ে এই নিউজটা দেখছিলো রোহান। সে নিজেও অবাক হয়ে আছে CCTV ফুটেজ কখনো ভুল হতে পারে না।তাহলে সবাই গায়েব হয়ে গেলো কিভাবে। তাও এটা রোহানের কলেজ ছিলো। আজকে তাদের গেমটা রান করবে ভেবে আজকে কলেজে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো রোহান। কিন্তু যদি কলেজে যেতো তাহলে সেও গায়েব হয়ে যেতো এটাই ভাবছে রোহান। কিন্তু পরক্ষনে ভাবলো এটা সে কি ভাবছে। যারা গায়েব হয়েছে তাদের পরিবারের অবস্থা টা কি এখন। এই ভেবে রোহানের মন খারাপ হলো। কিন্তু কি আর করার সবকিছু তো আর বলে কয়ে হয়না।

-কি ভাই মন খারাপ করে আসিস কেনো খাওয়া দাওয়া কর।

-রোহান কি হয়েছে তোদের কলেজের ব্যাপারে মন খারাপ করে আছিস নাকি। (রোহানের আম্মু)

-আমারও মনে হচ্ছে ওই CCTV ক্যামেরা তে সমস্যা আছে নাহলে এমন দেখাতো না (আব্বু)

-না আব্বু ক্যামেরা কখনো ভুল দেখায় না। কিছু তো রহস্য আছে নাহলে একটা ছাত্রীর লাস্ট লোকেশন থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে দেখাবে কেনো।

-তোকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না আমি তোদের কলেজে যেয়ে খবর নিচ্ছি। আর বাইরে কোথাও যাবি না আজকে।

-কিন্তু আব্বু এখন আমাকে নীলের বাসায় যাওয়ার কথা।

-আচ্ছা ওর সাথে থাকিস বাইরে কোথায় যাবি না ঠিক আছে (আম্মু)

-হ্যা তোমরা চিন্তা করো না।

রোহান খাওয়া দাওয়া শেষ করে নীলের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। এর মাঝে রোহান সবাই মানে নাঈম সুজন আর নাহিদ কে ফোন করে নীলের বাসায় আসতে বললো।এখন তাদের বেটা ভার্সন খেলতে হবে তবেই World wide এ রিলিজ দিবে। এজন্য তারা সবাই অনেক এক্সাইটেড। অবশেষে অনেক কল্পনা জল্পনার পর তাদের নিজের বানানো গেম খেলতে পারবে।

রোহান নীলের বাসায় পৌঁছাতেই ঠিক ওই সময় নাঈম সুজন আর নাহিদ আসলো তারা সবাই ভিতরে গিয়ে নীলের রুমে আসে। এসে দেখতে পেলো নীল এখনো ঘুমাচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছে। নীল সবসময় পরিশ্রম করে সবকিছুতে। একটা কাজ যদি সে স্থির করে সেটা সম্পন্ন করেই ছাড়বে।সবাই সিদ্ধান্ত নিলো কিছুক্ষণ তারা বসে থাকবে তারপর নীল কে ডাকবে।

-কিরে রোহান আজ খবরে দেখছিস তোদের কলেজে কি হয়েছে। (সুজন)

-হ্যা আমিও দেখছি মিরাকল কাহিনী একটা ঘটে গেছে। 

-আচ্ছা চল তোদের কলেজে যেয়ে দেখে আসি কি অবস্থা। (নাঈম)

-হুম এটা আমিও ভাবতাছি এর ফাঁকে নীলের একটা ভালো ঘুম হয়ে যাক এরমধ্যে আমরা কলেজ থেকে ঘুরে আসি। হাজার হলেও আমি ওই কলেজে পড়ি তাই একটু চিন্তা হচ্ছে আমার ক্লাস রুমের সবাই গায়েব হওয়ার জন্য।

-কিন্তু আম্মা আব্বা তো আমাকে বাইরে কোথাও যেতে বারন করলো সুজন আর নাঈম ভাইয়া ছিলো বলে আমাকে যেতে দিয়েছে (নাহিদ)

-আমাকেও বারন করেছে কিন্তু তবুও চিন্তা হচ্ছে সবার কি হয়ে গেলো (আমি)

তারপর রোহান নাহিদ সুজন নাঈম সবাই কলেজের উদ্দেশ্য রওনা দিলো। কলেজ টা অনেক দুর প্রায় ৬ কিলোমিটার তাই তারা বাসে করে গেলো। ৬ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছে গেলো কলেজে।বাস থেকে নেমে একটু দুর থেকে দেখতে পেলো অনেক মানুষের ভিড় লেগে আছে। সাথে অনেক পুলিশ ফোর্স ও আছে। তারা ওখানে গিয়ে দেখলো পুরো কলেজ টা সীল মেরে দিয়েছে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে। সাথে ভাইরাল করার জন্য তো মিডিয়া সাংবাদিক তো আছেই। সেখানে সবার থেকে জানতে পারলো এখনো কোনো ক্লু খুঁজে পায় নি তারা। না কোনো চিহ্ন। তাই পুরো কলেজটা সীল মেরে রেখেছে। অনেক জন তো কান্নায় ভেঙে পড়ছে তাদের সন্তানদের কিভাবে খুঁজে পাবে।

-কি একটা দিন এলো দেখতো এতো জনের কান্না সহ্য হচ্ছে না। তোদের ক্লাস রুমের সব ছাত্র ছাত্রী এমন ভাবে গায়েব হয়েছে যে তার কোনো প্রমান নেই (নাঈম)

-এখানে আমাদেরই বা কি করার আছে আমরা শুধু নিরব দর্শক হয়ে দেখছি আরে ওয়েট এ মিনিট আমরা তো CCTV footage এর আক্সেস নিতে পারি

-হ্যা তাইতো আমরা তো ভুলেই গেছিলাম তুই একজন প্রফেশনাল হ্যাকার।এবার আমরা এর অরিজিনাল ফুটেজ দেখতে পারবো। (সুজন)

হঠাৎ নাহিদ বলতে লাগলো

-আমার ছোট মনে একটা প্রশ্ন সব ক্লাসের তো ছাত্র ছাত্রী তো গায়েব হলো না । শুধু ভাইয়া তোমার ক্লাস রুমের সবাই গায়েব হলো কিভাবে। অথচ আশেপাশের লোকজন কিছু জানতেই পারলো না এমনকি দারোয়ান চাচা তো কলেজের বাইরে গেটে পাহাড়া দিচ্ছিলো সেও কিছু জানতে পারলো না।

-আবার ওই ক্লাসের একটি ছাত্রীর লাস্ট লোকেশন থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে পাওয়া গেছে কিন্তু কলেজের গেটের সামনে দারোয়ান চাচা থাকাকালীন তার লোকেশন কিভাবে ওই জঙ্গলে থাকবে, খবরে তো শুনলাম সেই ছাত্রীর লোকেশন নাকি সর্বপ্রথম কলেজে ছিলো। (নাঈম)

নাহিদ এবং নাঈমের কথায় যুক্তি আছে এটা কিভাবে সম্ভব। আর দাড়োয়ান গুলো গায়েব হয়নি কেনো। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে তবুও দাড়োয়ান চাচারা কোনো উত্তর দিতে পারছে না। এখন একটায় উপায় CCTV footage এর আক্সেস নেওয়া। তাহলে অরজিনাল ফুটেজে সব দেখতে পারবে।

চলবে

Writer: MD Rohan Islam

Waiting for next part

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url