Last location of Thunder Wild Jungle | The Mysterious Game Part 5

নীল এখনো বেঘোরে ঘুমাচ্ছে তাই রোহান নাহিদ সুজন আর নাঈম ল্যাবে ঢুকলো আর রোহানের নিজের ল্যাপটপটি বের করলো। এবং ওয়াইফাই কানেক্ট করে নিজের সার্ভারের (Server) ঢুকলো এবং তার কলেজের আইডি কোড দিয়ে কমান্ড দিলো।

রোহান ওই কলেজের আইডি কোড সম্পর্কে আগে থেকে জানে তাই তার কোনো অসুবিধা হলো না। কমান্ড দিতেই তার কলেজের খুঁটিনাটি বের হয়ে আসলো।স্কুলের কম্পিউটারের আক্সেস নিলো যেহেতু CCTV footage এর সব ভিডিও স্কুলের কম্পিউটারে সেইভ করে রাখা হয়েছে তাই আক্সেস নেওয়ার সাথে সাথে আজকের তারিখের CCTV footage এর ভিডিও বের হয়ে আসলো। ফাইলটা অনেক বড় হওয়ায় ৩০ মিনিট সময় লাগলো ডাউনলোড হতে যেহেতু হাই স্পীড ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক আর টরেন্ট দিয়ে ডাউনলোড করায় কম সময়ের মধ্যেই হয়ে গেলো।

ভিডিওটি ডাউনলোড সাকসেসফুলি হলে রোহান তার নিজের সার্ভার অফ করে দেয় । কারন পুলিশ যদি বুঝতে পারে কম্পিউটার টি হ্যাক হয়েছে তাহলে তারা হ্যাকারের সার্ভারের লোকেশন ট্রেস করবে কিন্তু রোহানের সার্ভারের লোকেশন এমন ভাবে সেট করা আছে চাইলেও তার লোকেশন ট্রেস করতে পারবে না। বিভিন্ন পাওয়ারফুল ভিআইপি কোডিং এর মাধ্যমে এমনটা সম্ভব হয়েছে।

রোহান ভিডিওটি চালু করে সেখানে রাত ১২ টার পর থেকে রেকর্ড শুরু হয়েছে রোহান সকাল ১০ টার সময় সেট করলো কারন এই সময়ে এতকিছু ঘটেছে। অনেকে কলেজে প্রবেশ করছে কারন ক্লাসের টাইম হয়ে গেছে। সবাই ক্লাস রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো। স্যারও ক্লাস করাচ্ছে। কিন্তু রোহানের একটা জিনিসের ওপর সন্দেহ হলো। একটা মেয়ে একটা বই নিয়ে দেরিতে ক্লাসে ঢুকলো মানে ১০:২০ মিনিটে। রোহান স্কুলের কম্পিউটার হ্যাক করার ফলে সে সব ব্যাকাপ রেখেছিলো তাই থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে যে মেয়েটার নাম্বারের লোকেশন পাওয়া গেছে তার ফটো আর CCTV footage এ মেয়েটি প্রায় একই। কিন্তু সে একটা অদ্ভুত বই নিয়ে কি করছে? মেয়েটা বইটি নিয়ে ক্লাস রুমে চলে গেলো। মেয়েটি বারবার বইয়ের দিকে তাকাচ্ছে। হঠাৎ যা ঘটলো তা দেখে রোহান সহ বাকি সবাই অবাক

এটা কিভাবে সম্ভব রোহান সহ নাহিদ সুজন নাঈম অবাক হয়ে আছে। মেয়েটি বারবার বইয়ের দিকে তাকালো ঠিক সেই সময়ে মুহূর্তের মধ্যেই সবাই গায়েব হয়ে গেলো। ক্লাসে রুমের ঘড়িতে নজর দিলো দেখলো টাইমিং ৩ মিনিট কাট করা হয়েছে। কিন্তু এটা কি করে সম্ভব হতে পারে, শুধু ৩ মিনিট ফুটেজ কাট করেছে এখন প্রশ্ন আসছে এই তিন মিনিটে সবাই গায়েব হলো কিভাবে। কোনো চিংকার হইহুল্লোড়ের কোনো শব্দ নেই। এই তিন মিনিটে এটা কখনোই সম্ভব না। তাহলে কিভাবে হতে পারে?

-এখানে কি তাহলে ম্যাজিক হয়ে গেলো নাকি ক্লাস রুমে সবাই মাত্র ৩ মিনিটেই গায়েব। মনে হচ্ছে কেউ যাদু মন্ত্র করে তাদের গায়েব করলো (নাহিদ)

-এটা কিন্তু মজা করার বিষয় না নাহিদ (নাঈম)

-ওই এমনি মনে আসলো তাই বলে ফেললাম (নাহিদ)

-নাহিদের কথাটা ফেলে দেওয়ার মতো না কিন্তু কলেজে যা ঘটেছে এটা তো ম্যাজিক বা যাদু মন্ত্রের মাধ্যমেই পসিবল। (আমি)

-কিন্তু রোহান এই মর্ডান আর ডিজিটাল যুগে এটা কি করে হয় যাদুবিদ্যা এটা কি আজও সম্ভব (সুজন)

-পৃথিবীতে অনেক রহস্য অনেক জায়গায় লুকিয়ে আছে সেসব কিন্তু আমরা জানি না। এটা তারই একটা অংশ হতে পারে বাট কিছু তো রহস্য আছেই। (আমি)

-আজকে গেম খেলাটা মাটি হয়ে গেলো কত কিছু ভাবছিলাম গেম নিয়ে। (নাহিদ)

-আরে মন খারাপ করিস না। গেম খেলার চাইতে এটা সলভ করা অনেক জরুরি।অনেক ছাত্র ছাত্রীর জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন এটা। আমরা তো এভাবে বসে থাকতে পারি না (আমি)

কিরে কি নিয়ে কথা হচ্ছে এখানে। সবাই পেছনে তাকিয়ে দেখলো নীল দাঁড়িয়ে আছে।তারপর সুজন আর নাঈম সব ঘটনা খুলে বলল নীলকে আজকে যা যা ঘটেছে সব। সব শুনে নীল নিজেও অনেক অবাক হয়ে গেছে।

-আমি ভাবতেই পারছি না রোহান এটা কিভাবে সম্ভব। কলেজের মধ্যে শুধু তোর ক্লাস রুমের সবাই গায়েব। মাত্র ৩ মিনিটেই একদম উধাও হয়ে গেলো। CCTV footage এ একদম পরিষ্কার।আচ্ছা তোরা কি বললি কলেজের একটা মেয়ের লাস্ট লোকেশন থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে ছিলো। (নীল)

-কিন্তু বনআর্মি বা পুলিশ ডিটেকটিভরা তো সেখানে কোনো ক্লু বা কাউকে খুঁজে পাইনি। (নাঈম)

-আমার তো মনে হয় এসব ঘটনার সাথে ওই মেয়েটার কোনো সম্পর্ক আছে, না হলে ওই থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে তার লাস্ট লোকেশন কেনো পাওয়া যাবে। (নীল)

-এটা তো আমিও সন্দেহ করছি। একটা ভয়ংকর পরিত্যক্ত জঙ্গল মেয়েটি ওখানে কি করবে। আর সবচেয়ে রহস্যময় লাগছে ওই বইটি। মেয়েটি গায়েব হওয়ার আগে বারবার বইয়ের দিকে তাকাচ্ছিলো।

অন্যদিকে

পুলিশ ডিটেকটিভ তদন্তের সময় একটা ঘটনা ঘটে যায়। যখন একটি ছাত্রীর লোকেশন ওই থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে পাওয়া যায় কিন্তু ওই জঙ্গলে কাউকে খুঁজে পাইনি পুলিশ ফোর্স সহ আর্মিরা। পুলিশ এবার অন্য পদক্ষেপ নেয় পুরো থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলের লোকেশন ট্রেস করে এবং সেখানে কলেজে গায়েব হওয়া সবার লাস্ট লোকেশন শো করতে থাকে।এবার পুলিশ নিজেও টেনশনে আছে এতো জনের লাস্ট লোকেশন থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে শো করছে কিন্তু জঙ্গলে কোথায় কারো নাম নিশানাও নাই তার চেয়ে আজব বিষয় হচ্ছে ওদের সবার নাম্বার ট্রেস করলে কারো লোকেশন খুঁজে পায় না। শুধু ওই জঙ্গলে সবার লাস্ট লোকেশন দেখাচ্ছে। ওই ছাত্রী ছাড়া যখন পুরো থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলের লোকেশন ট্রাক করে সেখানে গায়েব হওয়ার সবার লাস্ট লোকেশন শো করতে থাকে।

রোহানের ফোনে একটা কল আসে। রোহান ফোন রিসিভ করলো কারন তার আব্বু ফোন দিয়েছে নিশ্চয়ই কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর দিবে।

-হ্যা আব্বু বলো কিছু জানতে পারলে।

রোহানের আব্বু সবঘটনা খুলে বলল থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলে নাকি সবার লাস্ট লোকেশন খুঁজে পাচ্ছে।সব কথা বলল যেসব পুলিশ একটু আগেই জানতে পারলো।আর কিছু কথা বলে কল কেটে দিলো।

এখন রোহান নিজেও অবাক হয়ে আছে।এটাও কি সম্ভব।তাদের নাম্বারের লোকেশন ট্রাক করলে Not Found দেখায় লোকেশন খুঁজে পায় না। অথচ থান্ডার ওয়াইল্ড জঙ্গলের লোকেশন ট্রাক করলে গায়েব হওয়া সবার লাস্ট লোকেশন শো করে এটা কিভাবে সম্ভব?

চলবে

Writer: MD Rohan Islam

Waiting for next part

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url